Bangladesh Anarchist Network

শ্রেণী সংগ্রাম

নিরাজবাদিরা বলেন, ১৯১৪ সালের আগে থেকেই নানা ভাবে বিজয় অর্জন করে এসেছে, দরিদ্র কৃষক এবং কারিগর শ্রেনী ও বিপ্লবে ভূমিকা রাখতে পারেন, তবে নিরাজাদ সম্পর্কে শিল্প শ্রমিকদের চেয়ে তাঁদের মধ্যে কম প্রচার হয়েছে।

নিরাজবাদ : কতিপয় ভাবনা

সাধারন আমাদের অঞ্চলে “এনার্কি বা নৈরাজ্য” শব্দটিকে ভুল ভাবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। লোকেরা একে অবিচার ও সন্ত্রাস মনে করে থাকে। প্রচলিত ভাবে মানুষ চিন্তা করেন যে, সরকার, পুলিশ, উঁচু মহলের নির্দেশনা, সামাজিক জীবন, ও রাজনৈতিক দল এবং কার্যক্রম ছাড়া চলা যায় না – সেই দৃস্টিতে তাঁদের ধারনা সঠিক - এনার্কিজম মানেই হলো সরকারে বিলয় ও উচ্ছেদ। কিন্তু যারা এই ধারনার সম্পূর্ন বিপরীত চিন্তা করেন তারা মনে করেন, সরকার হলো স্বৈরাচারী এক ব্যবস্থার নাম।

নিরাজ সমাজঃ আসলে কি চায় ? ( ষষ্ঠ পর্ব)

প্রাকৃতিক জগতের আইন প্রয়োগের জন্য কোন প্রকার জবরদস্তির দরকার পরে না, এটা প্রকৃতির মধ্যেই স্বপ্রনদিত হয়ে চালু থাকে- বাস্তবায়িত হয়। উদাহরন হিসাবে উল্লেখ করা যায়, মানব দেহে পুস্টি চাহিদা, যৌন কর্মের আকাঙ্ক্ষা, আলো ও বাতাস তার নিজস্ব গতিতেই পরিচালিত হয়। এই সকল আইন বা নিয়ম বাস্তবায়নের জন্য সরকার, ক্লাব, বন্দুক, হাত করা বা কারাগার দরকার হয় না ।

নৈরাজ্যবাদ নিয়ে কিছু আলাপ

“নৈরাজ্যবাদ” হল এমন একটি সামাজিক অবস্থা সরকারের নিপিড়ন মূলক উঁচু নিচু প্রশাসনিক ব্যবস্থার পরিবর্তে স্বনিয়ন্ত্রিত ও সম্মিলিত সামাজিক সম্পর্ক বিরাজ করবে; “নৈরাজ্যবাদি” হল সেই সকল ব্যাক্তি যারা নৈরাজ্যিক দর্শন আনুসারে সামাজিক আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত। কর্তৃত্ববাদ বিরুধী লোকেরা কোন প্রকার নিপিড়ন মুলক যাজকতন্ত্রের অনুগত থাকতে চায় না । ঐতিহাসিক পঠভূমি অনুসারে আমারা জানি এই যাজকতন্ত্রের বিরুদ্বে আন্দোলন ইউরূপেই প্রথম সূত্রপাত হয়। সেই সময়ে সামাজিক শ্রেনী বিভক্তির বিরুদ্বে নানা প্রকার আন্দোলন ও গড়ে উঠেছিলো। তবে সকলেই ‘নৈরাজ্যবাদি’ ছিলেন না ।

বিপ্লবী সামাজিক আন্দোলন

একটি নৈরাজ্যিক সমাজকে রাষ্ট্র ও পুঁজিবাদের সাথে তুলনা করা যায় কেমন করে? একটি উঁচু নিচু স্তর বিশিষ্ট সমাজ কিছু বিষেশ বৈশিস্ট ধারন করে থাকে। এই ধরনের সমাজ তাঁদের প্রতিবেশীদেরকে গিলে খায়, তাঁদের প্রশাসক চক্র নানা সুবিধা আদায় করে থাকে । পক্ষান্তরে, এই সকল সমাজে জলবায়ুর পরিবর্তন, খাদ্য সঙ্কট, পানির সঙ্কট, বাজারের অস্বাভাবিক উঠা নামা, সামাজিক-আর্থিক বৈষম্য ও অস্থিরতা নিত্য সংগী হয়ে থাকে । এই গ্রন্থে আমি দেখাতে চেষ্টা করব একটি নৈরাজ্যবাদি সমাজ কিভাবে ঠেকসই পদ্বতীতে তাঁর সকল লোকদের সকল চাহিদা পুরন করে থাকে ।

ঈশ্বর এবং রাষ্ট্র

‘ঈশ্বর ও রাষ্ট্র’- নামক বইটি মূলত কিছু চিটি পত্র ও প্রতিবেদনের সমাহার। বাকুনিনের অন্যান্য বই ও রচনা সমূহ এই ভাবেই প্রনিত হয়েছে। তাই, এতে ও কিছু সাহিত্যগত সমস্যা বা সিমাবদ্বতা রয়েছে, রয়েছে কিছু ভাগ বিভাজন ও বিন্যাসের সমস্যা; আর আছে ধারাবাহিকতা রক্ষার না করতে পারার অক্ষমতাঃ আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি প্রতিটি বিষয়ের মৌলিকত্ব ও মুল সূত্র আবিস্কার করে তুলে ধরতে। বাকুনিনের নিকট কোন সময়ই সামগ্রীক কর্ম সম্পাদনের পর্যাপ্ত সময় ছিলনা । তিনি যখনই কোন কাজ প্রায় শেষ করে এনেছেন তখনই অন্য আর একটি কাজের সূচনা হয়ে যেত। যারা তাঁর লিখার সমালোচক তিনি তাদেরকে বলেছেন, এই গুলো “ আমার জীবন ও কিছু লিখার প্রয়াস”।

নিরাজ সমাজঃ আসলে কি চায় ? ( পঞ্চম পর্ব)

এ প্রসঙ্গে মার্কিন সরকারের কথা উল্লেখ করা যায়, আমেরিকার মহান এনার্কিস্ট চিন্তক, ডেভিড থিউ বলেন, “ সরকার এখন যতটা না কার্যকর তাঁর চেয়ে বেশী ঐতিহ্য হিসাবে চলছে, অনেকেই সরকার চালাতে নানা প্রকার জোড়াতালি দেবার চেষ্টা করছেন, কিন্ত কিছুতেই শেষ রক্ষা ও হচ্ছে না; নানা ভাবে প্রকাশিত হচ্ছে অনৈতিকতা ও অব্যবস্থপনা। রাষ্ট্র এখন আর প্রাণবন্ত সংস্থা নয়, এটা জীবন্ত মানুষকে কম গুরুত্ব দিচ্ছে। আইন মানুষকে আর ন্যায় বিচার দিতে পারছেনা ; এটাকে নিজেদের ইজ্জত রক্ষার মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার করছে, দৈনিন্দন ঘটনা প্রবাহে অন্যায়ই পরিস্ফুট হয়ে উঠছে”।

নিরাজ সমাজঃ আসলে কি চায় ? ( চতুর্থ পর্ব)

এনার্কিজম হল এমন একটি পথ ও পন্থা বা উপায় যা সকল মানুষকে বিদ্যমান সব বাঁধা থেকে স্বাধীন ও মুক্ত করে দেয়; এটা ব্যাক্তি ও সমাজের মধ্যে ন্যায় সংগত পন্থায় একটি সুসমন্ব সাধন করে থাকে। মানুষের ঐক্য ও সংহতি বিধানের ক্ষেত্রে যে সকল বাঁধা আছে তা দূরী করনের জন্য প্রয়োজনে যুদ্ব ঘোষনা করে। ব্যাক্তি মানুষ ও সমাজের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্ক সৃজনে ভূমিকা রাখে।

নিরাজ সমাজঃ আসলে কি চায় ? ( তৃতীয় পর্ব)

মানব জাতির ইতিহাসের দিকে থাকালে আমরা দেখতে পাই দুইটি বড় বিষয় বা দ্বন্দ্ব সকল সময়েই মানুষকে কষ্ট দিয়েছে; তাই এই বিষয় সমূহ আমাদেরকে ভালোকরে বুঝে নিতে হবে। এই বিষয় গুলো বাহিরের জিনিষ নয় বরং আমাদের ভেতরেরই জিনিষ। আর এই গুলো হলো, সামাজিক এবং ব্যাক্তিগত প্রবৃত্তি । ব্যাক্তি ও সমাজ বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়, তবে সকল সময়েই এদের মধ্যে চলে এসেছে দ্বন্দ্ব ও লড়াই।

নিরাজ সমাজঃ আসলে কি চায় ? ( দ্বিতিয় পর্ব)

এনার্কিজম বলে, মানুষ হিসাবে আমাদের চিন্তা করা, কোন কিছুকে ভালোভাবে বিশ্লেষণ করা এবং প্রতিটি পরিস্থিতিতে তদন্তের ব্যবস্থা থাকা দরকার; কোন মানুষের চিন্তা শক্তির উপর বাঁধা নিষেধ আরোপ করা সমিচীন নয়। আমি এনার্কিজমের বা নৈরাজ্যবাদের বা নিরাজবাদের একটি সংক্ষিপ্ত সংজ্ঞা দিয়ে এর বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করব।